দুঃখের নদী হোয়াংহো। চীন হোয়াংহো নদীকে চীনের দুঃখ বলা হয়

16

চীনের দুঃখ হোয়াংহো_নদী।।

হোয়াংহো নদীকে চীনের দুঃখ বলা হয়।কেননা প্রাচীন চীনে প্রায়ই হোয়াংহো নদী ছাপিয়ে উঠে সবকিছু বন্যায় ভাসিয়ে দিতো বলে এই নদীর নাম ছিল “চীনের দুঃখ”।

ইতিহাসে ছাব্বিশবার এই নদীর গতিপথ বদল হয়েছে অতি প্রচন্ডভাবে। এর ফলে প্রত্যেকবারই চীনের জনগণের জীবনে নেমে এসেছে অবর্ণনীয় দুঃখদুদর্শা।

হোয়াংহো নদীকে বলা হয় চীনের সভ্যতার প্রান। ইতিহাসবিদরা মনে করেন, এই নদীর তীরে গড়ে ওঠা সভ্যতাকে ঘীরেই চীনা সভ্যতার গোড়া পত্তন হয়েছে।

হোয়াংহো নদীর অপর নাম পীত নদী/হলুদ নদী।হুয়াহো নদীতে রয়েছে প্রচুর বালি। এ কারণে কখনও কখনও হোয়াংহো নদীর পানি হলুদ রঙ ধারণ করে। আর এ থেকেই এর নামকরণ হয়েছে হোয়াংহো নদীর।

হোয়াংহো হলো চীনের দ্বিতীয় দীর্ঘতম ও এশিয়ার ২য় বৃহত্তম এবং বিশ্বের পঞ্চম দীর্ঘ নদী। ছিংহাই প্রদেশের বায়ান হার পবর্তের উত্তরাংশে হুযাংহো নদীর উৎপত্তি হয়ে নদীটি পীতসাগরে পতিত হয়েছে। নদীটি চীনের ৯টি প্রদেশের মধ্য দিয়ে মোট ৫৪৬৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে।

আকাশ থেকে দেখলে হোয়াংহো নদীটিকে চীনা অক্ষর “几” এর মতো দেখায়। আগে হোয়াংহো নদীতে ঘন ঘন বন্যা হতো, মাঝে মাঝে পানি শুকিয়ে যেতো। এরপর নয়া চীন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর চীন সিয়াওলাংদি জলসেচ স্থাপনা নির্মিত হওয়ার পর নদীর পানিকে নিয়ন্ত্রণ করা শুরু হয়।

যা দু’পাড়ের জনবসতিকে অর্থনৈতিকভাবেও অনেক লাভবান করেছে। হুখৌ জলপ্রপাত ও লংমেন শাখা বর্তমানে একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র।

অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন, এ নদীকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে মহান চীনা সভ্যতা। প্রায় চার হাজার বছর আগে হোয়াংহো নদীর দুই তীরে বেশ কিছু সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস শুরু করে।

এভাবেই হোয়াংহো নদীর দুই পাড়ে জনবসতি গড়ে ওঠে। তখন থেকেই হোয়াংহো নদীর দু’পাড়ের ভূমিতে আদি চীনাদের বসবাস শুরু হয় বলে ধারণা করেন কেউ কেউ।

তাই হোয়াংহো নদী চীনের মাতৃনদী হিসেবে পরিচিত। হুয়াংহো নদীর অববাহিকার পশুচারণ ভূমি বেশ উর্বর ও খনিজ পদার্থে সমৃদ্ধ। এই নদীর অববাহিকাতে চীনের প্রাচীনতম সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। এ নদীর অববাহিকা চীনের সভ্যতা, ইতিহাস ও সংস্কৃতির লালনাগর।
লেখক ঃ আলিফ হাসান।