শুভ জন্মদিন কিংবদন্তি জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মনির খান

19

এক সাথো বিশেষ দুইটি দিন এক হল শুভ জন্মদির, আর হল
🌷🌷 সব ঈদ-উল-আজহার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন 🌹🌹🌹

ত্যাগের এই মহিমান্বিত ঈদুল আযহা সবার জীবনে বয়ে আনুক সুখ ও শান্তি গতিময় এই চলার পথে।🌹

সংক্ষিপ্ত পরিচিতিঃ
পুরো নামঃ মনির খান
জন্মঃ ০১-০৮-১৯৭২
জন্ম স্থানঃ মদনপুর গ্রাম, মহেশপুর, ঝিনাইদহ
পিতাঃ মোঃ মাহবুব আলী খান
মাতাঃ মোছা. মনোয়ারা খাতুন
বোনঃ মোছা. রাবেয়া খাতুন
ভাইঃ মজিদ খান, মাসুদ খান এবং মামুন খান
সহধর্মিণীঃ তাহমিনা আক্তার ইতি
সন্তানঃ মুসফিকা আক্তার মৌনতা এবং মোসাব্বির খান মুহূর্ত
শিক্ষাঃ কোটচাঁদপুর ডিগ্রি কলেজ
পেশাঃ সঙ্গীত শিল্পী
ধর্মঃ ইসলাম
প্রথম অ্যালবামঃ তোমার কোন দোষ নেই (১৯৯৬)
সর্বশেষ অ্যালবামঃ ঘুম নেই দুটি চোখে (২০১৮)
প্রথম জাতীয় চলচিত্র পুরস্কারঃ প্রেমের তাজমহল (২০০১)
দ্বিতীয় জাতীয় চলচিত্র পুরস্কারঃ লাল দরিয়া (২০০২)
তৃতীয় জাতীয় চলচিত্র পুরস্কারঃ দুই নয়নের আলো (২০০৫)

╚►পারিবারিক পরিচিতিঃ
নব্বই এর দশকে উদীয়মান ও সবচেয়ে জনপ্রিয় কণ্ঠ শিল্পীদের মধ্যে মনির খান অন্যতম। জনপ্রিয় এই কণ্ঠশিল্পী ১৯৭২ সালের ১ আগস্ট ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর থানার মদনপুর গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা একজন স্কুল শিক্ষক এবং মাতা গৃহিণী। এক বোন ও চার ভাই এর মধ্যে মনির খান দ্বিতীয় এবং ভাইদের মধ্যে প্রথম।

╚►শিক্ষাজীবনঃ
মনির খানের শিক্ষাজীবনের শুরু নিজ গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরবর্তীতে হাকিমপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও পরে যশোরের চৌগাছা উপজেলার নারায়নপুর বহরাম উদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেন। ১৯৮৭ সালে এখান থেকে এস, এস, সি পাশ করেন। এইচ, এস, সি পাশ করেন ১৯৯০ সালে কোটচাঁদপুর ডিগ্রী কলেজে থেকে। ১৯৯২ সালে ঐ একই কলেজ থেকে তিনি ডিগ্রী পাশ করেন।

╚►বৈবাহিক জীবনঃ
মনির খানের বৈবাহিক জীবন শুরু হয় ২০০১ সালে। কিশোরগঞ্জের মেয়ে তাহামিনা আক্তার ইতির সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন ২০০১ সালে। তিনি এক কন্যা সন্তান মুসফিকা আক্তার (মৌনতা) এবং পুত্র মোসাব্বির খান মুহূর্ত এর পিতা।

╚►সঙ্গীত জীবনঃ
গুণী এই শিল্পীর বাল্যকাল কেটেছে নিজ গ্রামেই। বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা, ছোটাছুটি, পুকুরে সাঁতাঁরকাটা আর মাছ ধরা সবমিলিয়ে এক আনন্দঘন পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন মনির খান। এত কিছুর মধ্যেও ছোট বেলা থেকেই তাঁর গানের প্রতি একটা সহজাত আকর্ষণ ছিল। স্থানীয় অনেক গুরুজনদের কাছে গান শিখেছেন। তবে সঙ্গীতের হাতেখড়ি হয় মূলত রেজা খসরুর কাছে। পরবর্তীতে স্বপন চক্রবর্তী, ইউনুস আলী মোল্লা, খন্দকার এনায়েত হোসেনসহ আরও কয়েকজন গুরুজনের কাছে তিনি গানের তালিম নিয়েছেন।
বাগেরহাট জেলার বাসিন্দা খন্দকার এনায়েত হোসেন ১৯৮৮ সাল থেকে কালিগঞ্জ গুঞ্জন শিল্পীগোষ্ঠি একাডেমীতে ১৫ দিন পর পর এসে গান শেখাতেন। সঙ্গীতের ভিত্তি গড়ে উঠেছে মূলত খন্দকার এনায়েত হোসেনের হাতেই।
১৯৮৯ সালে মনির খান খুলনা রেডিওতে অডিশন দিয়ে আধুনিক গানের শিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৯১ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত তিনি এখানে একজন নিয়মিত শিল্পী হিসেবে গান করেন।
১৯৯১ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর এখান থেকে এন. ও. সি নিয়ে তিনি ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকাতে আসার পরও তিনি বেশ কিছু গুরুজনদের কাছে গান শিখেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন আবুবক্কার সিদ্দিক, মঙ্গল চন্দ্র বিশ্বাস,সালাউদ্দীন আহমেদ, অনুপ চক্রবর্তীসহ আরও অনেকে। তিনি যখন যার মধ্যে ভাল কিছু পেয়েছেন সেগুলি নিজের আয়ত্বে নেয়ার চেষ্টা করেছেন।

╚►পুরস্কার ও সম্মাননাঃ
২০০১ সালে মনির খান প্রেমের তাজমহল ছবিতে কণ্ঠ দিয়ে প্রথমবারের মত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ভূষিত হন। এ গানের কথা ও সূর ছিল আহম্মেদ ইমতিয়াজ বুলবুল-এর। এত অল্প সময়ের মধ্যে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারের মত এত বড় প্রাপ্তি তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
২০০২ সালে লাল দরিয়া ছিনেমায় কণ্ঠ দিয়ে দ্বিতীয়বার জাতীয় চলচিত্র পুরস্কার লাভ করেন। গানটি ছিল সে আমার ভালোবাসার আয়না শিরোনামে। ২০০৫ সালে দুই নয়নের আলো সিনেমায় কণ্ঠ্য দিয়ে তিনি আবারো তৃতীয়বারের মত জাতীয় চলচিত্র পুরস্কার লাভ করেন। গানটি ছিল তুমি খুব সাধারণ একটি মেয়ে শিরোনামে।

জাতীয় চলচিত্র পুরস্কারের তালিকা-
SL.গানের শিরোনাম ছায়াছবি সাল গীতিকার, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক
০১ আমার প্রেমের তাজমহল প্রেমের তাজমহল ২০০১ আহম্মেদ ইমতিয়াজ বুলবুল
০২ সে আমার ভালবাসার আয়না লাল দরিয়া ২০০২ গীতিকার- গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুর ও সঙ্গীত-আলাউদ্দিন আলী
০৩ তুমি খুব সধারন একটি মেয়ে দুই নয়নের আলো ২০০৫ আহম্মেদ ইমতিয়াজ বুলবুল

এছাড়াও তিনি অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন। বাচসাস পুরস্কার, বাংলাদেশ টেলিভিশন রিপোটার্স এওয়ার্ড, বাংলাদেশ কালচারাল রিপোটার্স এওয়ার্ড সহ দেশ ও বিদেশে আরো অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি। তবে তিনি মনে করেন মানুষের ভালোবাসাই তাঁর জীবনে সবচেয়ে বড় পুরস্কার

আজকের এই বিশেষ দিনে হয়ে উঠো আরো নবীন ,
ভালোবেসে জানাই তোমায় শুভ জন্মদিন স্যার