লিবিয়ায় নিহত সুজন মৃধার বাড়িতে শোকের ছায়া -গোপালগঞ্জ

104

লিবিয়ায় মানব পাচারকারীদের গুলিতে নিহত ২৬ বাংলাদেশির মধ্যে গোপালগঞ্জের সুজন মৃধা (২০) একজন। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার গোহালা ইউনিয়নের বামনডাঙ্গা গ্রামে। তার বাড়িতে এখন চলছে শোকের মাতম। নিহতের পরিবারের স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠছে আকাশ-বাতাস। মরদেহ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আকুতি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।

গত জানুয়ারি মাসে পরিবারের অভাব মেটাতে ইন্টারমিডিয়েটের ছাত্র সুজন মৃধা লিবিয়া পাড়ি জমান। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার গোহালা ইউনিয়নের বামনডাঙ্গা গ্রামের কৃষক কাবুল মৃধার ছেলে সুজন মৃধা। সুজনের বাবা একই ইউনিয়নের যাত্রাবাড়ী গ্রামের রব মোড়লের মাধ্যমে ছেলেকে লিবিয়া পাঠান। আর এজন্য দালালকে ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা দেন।

স্থানীয় মহাজন ও কৃষি জমি বন্ধক রেখে টাকা জোগাড় করেন তিনি। পরে সেই টাকা তুলে দেন দালালের হাতে। ৩৫ হাজার টাকা মাসিক বেতন দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর তাকে কোনো কাজ দেয়নি দালাল চক্র। বরং মেরে ফেলার ১৭ দিন আগে সুজনকে ওই দেশের মানব পাচারকারী চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

২৬ মে মানব পাচারকারীরা সুজনের কাছে আরও ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে ভয়েস কল পাঠাতে বলে দেশে। ওই ভয়েস কলে মানব পাচারকারীরা সুজনকে মারপিট করার ভয়েস পাঠান। তখন সুজনের বাবা তাদের কাছে ১ জুন পর্যন্ত সময় চান। কিন্তু তার আগেই ওরা সুজনকে গুলি করে হত্যা করে।

ওই দেশে অবস্থানকারী বাংলাদেশি আমীর দালালের মোবাইল ফোন থেকে এই ভয়েস কল পাঠানো হয় এবং সোমালিয়ায় আহমেদ মোহাম্মদ আদম সালামের ব্যাংক হিসেবে মুক্তিপণের টাকা পাঠাতে বলা হয়।

নিহত সুজন মৃধার পরিবার

নিহতের মা চায়না বেগম (৪৫) কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলেকে আমার বুকে ফিরায় দেও। আমার ছেলেকে দালালরা নিয়ে গিয়ে ১৭ দিন কোনো খাবার দেয়নি। মারপিট করেছে। পরে মুক্তিপণ দাবি করে গুলি করে হত্যা করেছে। আমি আমার সন্তানের মরদেহ চাই। আর ঘটনার সঙ্গে জড়িত দালালদের ফাঁসি চাই। যাতে তারা আর কোনো মায়ের কোল খালি করতে না পারে।

একই দাবি জানিয়ে ওই গ্রামের জয়নাল সরদার (৬৫), লিটন মৃধা (৪৫), আকিজুল ইসলাম বাবুল (৬৫) বলেছেন, এই দালাল চক্রের হাতে গোহালা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের আরও বেশ কিছু যুবক লিবিয়ায় বন্দী আছে। আমরা তাদেরকে উদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে দালালদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি করছি।

জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা জানান, আমরা বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে জেনেছি। খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে ইউএনও-কে পাঠানো হয়েছে। আমরা দালাল চক্র ধরতে চেষ্টা চালাচ্ছি। আর এজন্য তিনি সবার সহযোগিতাও কামনা করেন।

সংগৃহীতঃবার্তা২৪