তথ্যপ্রযুক্তি

কোথাই হারিয়ে যায় আমাদের ফোনের। Delete হওয়া ডাটা কোথায় যায়, কি হয়

Delete হওয়া ডাটা কোথায় যায়, কি হয়- এ নিয়েই আজকে লিখবো।

লেখার শেষ দিকে কিছু সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, সম্পূর্ণ লেখা না পড়লে সেই সতর্কবার্তার কিছু বুঝতে পারবেন না। তাই, সম্পূর্ণ লেখাটি পড়ুন।

অনেকে হয়তো জানেন না ‘ডাটা’ কি জিনিস। ডাটা (data) হচ্ছে এমন প্রত্যেক পরিমাণগত তথ্য বা, বস্তু যা সংখ্যাভিত্তিক যেমনঃ অডিও, ভিডিও, ছবি, ম্যাসেজ ইত্যাদি। তো আমরা যখন আমাদের মোবাইল বা, কম্পিউটার থেকে এসব ডাটা delete করি, তখন কিন্তু সত্যিই মোবাইল বা, কম্পিউটার থেকে সেগুলো চিরতরে চলে যায় না। বরং, মেমোরি কার্ড অথবা, হার্ড-ডিস্কে সেই ডাটা থেকেই যায়।

কম্পিউটারের হার্ড-ডিস্ক দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাক। কম্পিউটারের কাছে অডিও, ভিডিও সবই বাইনারি সংখ্যা 1 এবং 0 দিয়ে গঠিত একটি ডাটা। তাই, আপনার কম্পিউটারকে এটা জানাতে হবে যে, কোনটি ছবি, কোনটি অডিও, কোনটি ভিডিও। এই জন্য প্রত্যকটি ডাটারই একটি ফরম্যাট থাকে। ফরম্যাটের মাধ্যমেই কম্পিউটার বুঝতে পারে- কোনটি অডিও আর, কোনটি ভিডিও। আবার, এই অডিও, ভিডিও ইত্যাদি file এর নামের শেষে extension ব্যাবহার করা হয় যেমনঃ ছবির নামের পরে .jpg, .jpeg, .png, .bmp আবার, ভিডিওর নামের পর .mp4, .3gp, .webm ইত্যাদি লেখা হয়। এগুলোকে extension বলা হয়। এই extension এর মাধ্যমে আপনার কম্পিউটার বুঝতে পারে- আপনি যেই file -এ ক্লিক করছেন, সেটিকে কোন software দিয়ে open করতে হবে। এই extension থাকার কারনেই আপনি যদি কোন PDF বই open করেন তখন সেটা কোন অডিও প্লেয়ার দিয়ে open হওয়ার মতো গন্ডগোল করে না।

যাই হোক, আপনি যখন কোন অডিও বা, ভিডিও download করেন তখন আপনার উইন্ডোজ কম্পিউটারে NTFS নামক ফাইল সিস্টেমের মাধ্যমে কম্পিউটারের HDD হার্ড-ডিস্কে চুম্বক পদ্ধতিতে সেই অডিও, ভিডিও ডাটাগুলো সংরক্ষিত হয়। আর, কম্পিউটারের রেজিস্ট্রি (registry) নামের একটি ডাটাবেজ আছে, যেখানে আপনার কম্পিউটারে কি কি আছে তার তালিকা রেজিস্টার করা থাকে।

এখন আপনি যদি কোন ডাটা delete করে দেন তখন কিন্তু সেই ডাটা কম্পিউটার হার্ড-ডিস্কে থেকেই যায়। কেবলমাত্র, সেই delete করা ডাটার নাম এই রেজিস্ট্রি ডাটাবেজ থেকে মুছে দেওয়া হয়। সেইসাথে আপনার কম্পিউটারে delete করা file টি কম্পিউটারে যেই নামে save করা ছিলো, তার নামের প্রথম অক্ষরটি মুছে ফেলা হয়। ফলে, ২ টি বিষয় ঘটে-

১। Delete করার পর সেই delete করা file -এর নামের প্রথম অক্ষর মুছে যাওয়ায় কম্পিউটারের কাছে সেই file টি unknown হয়ে যায়। এর মাধ্যমে কম্পিউটারকে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, unknown ডাটা-টি মেমোরির যেখানে থাকবে সেখানে নতুন download করা ডাটা store করে delete করা ডাটাটি চিরতরে মুছে দেওয়ার অনুমতি আছে।

২। Delete করার পর delete করা file টি রেজিস্ট্রি থেকে মুছে যায়। ফলে, file টি কম্পিউটারে থাকলেও আপনার কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেমের থেকে গায়েব হয়ে যায়।

এই কারনে delete করার পরে সেই delete করা file কম্পিউটারে থেকে গেলেও সেগুলো দেখা যায় না। আর, যেহেতু কম্পিউটারে থেকেই যায়; তাই, সেই delete করা ডাটা মেমোরির যেখানে ছিলো, সেখানে নতুন কোন ডাটা download করে ওভার-রাইট করার আগে পর্যন্ত পুনরায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

এখন অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে- “আমরা যখন ডাটা delete করি তখনই যদি কম্পিউটার সেই ডাটার জায়গায় অন্য কোন ডাটা ওভার-রাইট করে দিতো, তাহলেই তো সেই ডাটা চিরতরে মুছে যেতো? ফলে, আমাদের delete করা ডাটা অন্য কেউ দেখে ফেলার সম্ভাবনা থাকতো না!”

জি, ঠিক বলেছেন। কিন্তু, তখন একটি ডাটা delete করতে অনেক সময় লাগতো; তাই, এমন করা হয় না।

এছাড়া, ‘0 filling’ নামের আরেকটি পদ্ধতি আছে। লেখার শুরুতেই বলেছিলাম যে, কম্পিউটারের কাছে অডিও, ভিডিও সবই বাইনারি 0 এবং 1 সংখ্যা। আর, ধরুন এই সংখ্যাগুলো চুম্বকীয় হার্ড-ডিস্কে নিচের মতো থাকে-

1 থাকে এভাবে- ।

0 থাকে এভাবে- _

তো, delete করা ডাটা চিরতরে মুছে দেওয়ার জন্য একটি কাজ করা যায়। আর, তা হলো- বাইনারি সকল 1 সংখ্যাকে 0 দিয়ে পরিবর্তন করা। মনে করুন, একটি অডিওর গঠন নিচের মতো-

_ _ | _ | | _ _ _ _ _ | _ _ | _ _ _ _

এখানে,

1= |

0= _

তো, যখন আপনি এই অডিও delete করবেন তখন সব 1 সংখ্যাকে 0 দিয়ে পরিবর্তন করা হলে সেই অনুযায়ী-

আগে ছিলোঃ

_ _ | _ | | _ _ _ _ _ | _ _ | _ _ _ _

Delete করার পর হবেঃ


এই পদ্ধতি অবলম্বন করলে যদিও আপনার delete করা ডাটা কম্পিউটারে থেকেই যাবে কিন্তু, তার রূপ সম্পূর্ণ বদলে যাবে। তবে, এই পদ্ধতি নিয়েও হালকা কথা আছে। আর, তা হচ্ছে- যখন 1 সংখ্যাটি | থেকে _ তে রূপান্তরিত হয় তখন পুরোপুরি _ এর মতো সোজা না হয়ে কিছুটা বাকা হয়ে থাকে। ফলে, এভাবে delete করা ডাটা পুনরায় ফিরিয়ে এনে অন্যের তথ্য জেনে নেওয়া সম্ভব। কারন, আপনি সহজেই বাঁকা চিহ্নগুলো দেখে বুঝতে পারবেন- সেটি আসলে 1 ছিলো। কিন্তু, এসব করতে অনেক টাকা খরচ হয়।

সতর্কবার্তাঃ

ইন্টারনেটে কোন পার্সোনাল ছবি upload করার ব্যাপারে সতর্ক হোন। আপনি হয়তো ছবি বা, ভিডিওটি private ভাবে আপলোড দিচ্ছেন। কিন্তু, আপনি নিশ্চই জেনে গিয়েছেন যে, আপনি যদি এই ছবিগুলো delete করে দেন তবুও যেই ওয়েবসাইটে ছবিটি upload করেছিলেন সেই ওয়েবসাইটের সার্ভার মেমোরি থেকে তা মুছে যাবে না। এমনকি নিজের মোবাইল, কম্পিউটার বিক্রি করার ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করুন। মেমোরি কার্ড বা, হার্ড-ডিস্ক থেকে কয়েকবার সব ডাটা delete করে অপ্রয়োজনীয় কিছু ডাটা download করে মেমোরি ভর্তি করুন।

মনে রাখবেন- জ্ঞান এবং সচেতনতা হচ্ছে নিরাপত্তার মূল চাবিকাঠি।


Md. Abdullah Al Mamun

https://www.facebook.com/Mamun.Masak

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close