জন্মদিনশিক্ষা

ইতিহাসের অন্যতম এই মহামানব সুলতান সুলায়মান আল কানুন শুভ জন্মদিন আজ।

৬ নভেম্বর ১৪৯৪!
ইতিহাসে আজকের এইদিনে উসমানীয় সাম্রাজ্যের ট্রাবজান প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন সুলতান সুলায়মান আল কানুন🖤

ইতিহাসের অন্যতম এই মহামানব সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত কিছু আলোচনা!

🍁
পুত্রের জন্মের পর পিতা সেলিম সর্বপ্রথম তার জন্য সুন্দর ও আদর্শবান নাম রাখেন, নবি সুলায়মান আ. নামের সাথে মিলিয়ে প্রিয় পুত্রের নাম রাখেন ‘সুলায়মান’।

খুব ছোট থেকেই মা হাফসা সুলতান সন্তানের চরিত্র গঠন ও গুণগত লেখাপড়া অর্জনের দিকে মনোযোগী হন। কার্যত দাদি গুলবাহার খাতুন ছিলেন সুলায়মানের প্রথম শিক্ষক। মাত্র সাত বছর বয়সে সুলায়মান তার দাদা সুলতান বায়েজিদ এর কাছ থেকে রাজকীয় শিক্ষা লাভ করেন। এবং পৃথিবী বিখ্যাত জ্ঞানতাপস খিজির আফেন্দি ছিলেন তার উস্তাদের অন্যতম। তার কাছেই সুলায়মান ইতিহাস, বিজ্ঞান, সাহিত্য, ধর্মতত্ত্ব, রাষ্ট্রনীতি ও সমরকৌশল অধ্যয়ন করেন।

🍁
অত্যন্ত নম্র, ভদ্র, বিনয়ী, চিন্তাশীল, প্রখর মেধাবী ও তীক্ষ্ণবুদ্ধির অধিকারী হওয়ায় অতি অল্প বয়সে প্রাথমিক ও উচ্চ শিক্ষায় সাফল্যের সাথে সমাপ্ত করেন সুলায়মান।
খৎনা সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি অধ্যয়ন করেন হিস্ট্রি অব ফোরটি উজির, দ্য হিস্ট্রি অব সিন্দবাদ দ্য ফিলসোফার, আলেক্সান্ডার দ্য গ্রেট, কালিলা ও দিমনা, আরব্য রজনী, সৈয়দ বাত্তালের জীবনী সহ ইত্যাদি। একই সাথে তিনি আরবি ফারসি ভাষা সহ মোট পাঁচটি ভাষায় ছিলেন শিক্ষিত।

তার এমন অতুলনীয় গুণাবলী ও নেতৃত্বের যোগ্যতা, সততা, বুদ্ধি ও জ্ঞানের প্রতিভায় মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি মারিসার গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত হন।

🍁
পিতা সুলতান সেলিম ১৫২০ সালে মৃত্যুবরণ করলে মাত্র ২৬ বছর বয়সে তিনি সুলতান হিসেবে সিংহাসন লাভ করেন। সুলায়মানের খলিফা ও সুলতান হওয়ার বিষয়টিও একটি কিংবদন্তি বলা হয়।
যিনি কোনো রকম বিতর্ক ও দ্বন্দ্ব ছাড়া সর্বসম্মতভাবে উসমানীয় সাম্রাজ্যের ক্ষমতা লাভ করেন। সেই সময় এমন একজন মানুষও পাওয়া যায়নি যিনি তার নামে দ্বিমত বা আপত্তি পোষণ করেছেন। যেটা পৃথিবীর ইতিহাসে ক্ষমতা লাভের এক অন্যন্য দৃষ্টান্ত বটে।

ঈগল কখনও ঝাঁকে ঝাঁকে আসে না, আসে একটি। ঠিক নেতার মতো। প্রাচ্যদেশীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী প্রতিটি শতকের শুরুতে একজন মহামানব জন্মায়, যিনি নিজের আলোয় সবাইকে আলোকিত করেন। ষোড়শ শতক এমন একটি শতক, যে সময়ে প্রথম চার্লস, অষ্টম হেনরি, থিউডর ও সুলতান সুলায়মানের জন্মের শতক। আর ষোড়শ শতকের মহামানব হলেন সুলতান সুলায়মান।

৪৬ বছরের শাসনামলে ১০ বছর ৩ মাস ই ছিলেন যুদ্ধের ময়দানে। তিনি নিজে ১৩টি সামরিক অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছেন যার একটিতেও ব্যর্থ হননি। তার সামরিক বাহিনীর সৈন্যসংখ্যা ছিলো ৩ লাখ। এশিয়া, আফ্রিকা থেকে ইউরোপের প্রায় ৮০ লক্ষ্য বর্গকিলোমিটার অঞ্চল জুড়ে গড়ে তুলছেন এক বিশাল সাম্রাজ্য, যার বিস্তৃতি ছিল ভিয়েনা থেকে আরব উপদ্বীপ পর্যন্ত।

🍁
ভেনাসীয় রাজদূত সুলায়মানের বর্ণনা এভাবে করছেন,
“তিনি ছিলেন লম্বা, মাংসপেশীবহুল, সুন্দর গায়ের রং, তার ঘাড় লম্বা, বদন সুশ্রী, চোখা নাক, সন্তুষ্টচিত্ত, গায়ের চামড়া কোমল, তার কন্ঠস্বর স্পষ্ট ভরাট। সর্বোপরি তিনি ছিলেন বিচক্ষণ ও একজন জ্ঞানী ব্যক্তি”

🍁
সুলায়মান একমাত্র উসমানীয় শাসক যাকে ‘গ্রেট’ ও ‘ম্যাগনিফিসেন্ট’ উপাধি দেয়া হয়েছে। সাম্রাজ্যের আইন প্রনয়ণ করার জন্য তাকে ‘কানুনি’ উপাধি দেয়া হয়। তার করা আইনকানুন পরবর্তী ৩০০ বছর উসমানীয় সাম্রাজ্য ও ইউরোপীয় অঞ্চল পরিচালিত হয়েছে।

বিখ্যাত ইংরেজ ঐতিহাসিক স্টানলি লেনপুল বলেন,
“তুরস্কের ইতিহাসে সুলতান সুলায়মান ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ। তার ব্যক্তিগত চারিত্রিক গুণাবলী ছিল অসাধারণ, তার মেধা, ন্যায়পরায়ণতা, মহানুভবতা, দয়া এবং ভদ্রতাজ্ঞান কিংবদন্তিস্বরূপ ছিল।
তিনি এমন একজন শাসক ছিলেন, যিনি পরাজিত বন্দী ফ্রান্স সম্রাট ফ্রান্সিসের মায়ের চিঠির প্রতিত্তোরে তাঁকে মুক্ত করেন এবং তার রাজত্ব ফিরিয়ে দেন।
তার বুদ্ধিমত্তা, নিষ্কলুষ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কোনো তুলনা ছিল না। সুলায়মান ছিলেন, একাধারে দিগবিজয়ী বীর, বলিষ্ঠ প্রশাসক, সুচতুর কূটনীতিবিদ, একনিষ্ঠ জনসেবক ও নিষ্ঠাবান মুসলমান”।

লেনপুল আরো বলেন,
” সে যুগ (ষোড়শ শতাব্দী) সুলতান সুলায়মানের চেয়ে অন্য কোনো শ্রেষ্ঠ নরপতির সন্ধান দিতে পারে না”।

আরেক ইংরেজ ঐতিহাসিক এভারসল বলেন,
“তার ব্যক্তিগত জীবন কলুষমুক্ত ছিল”।

[রেফারেন্স বই, ‘সুলতান সুলায়মান’] [লেখাটা সংগ্রহীত]

ছবি : Wikimedia Commons

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close